দিল্লি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:১৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের চাবাহার বন্দর ঘিরে ভারতের কৌশল: মার্কিন চাপেও পিছু হটেনি দিল্লি
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ভারতের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক, বিশেষ করে চাবাহার বন্দর প্রকল্প, নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তবুও, কৌশলগত দিক থেকে ইরান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর।
ভারত ও ইরান যৌথভাবে চাবাহার বন্দরকে এমন একটি যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছিল, যার মাধ্যমে ভারত সরাসরি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এই প্রকল্পের আরেকটি বড় তাৎপর্য হলো—পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা, যা ভারতের ভূরাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর থেকেই চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে ভারতের সম্ভাব্য প্রত্যাহার নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন চাপ বাড়লে ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই জল্পনা ও প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাবাহার বন্দর চালু ও কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভারত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, মার্কিন চাপ ও আঞ্চলিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে চাবাহার প্রকল্পে ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।