দিল্লি ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:০০, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:০১, ২৭ মার্চ ২০২৬
দিল্লিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকমিশনারের বাসভবনের লনে আয়োজিত এই মিলনমেলা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক দিককে নতুন করে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি ভারতের সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের অবদান বাংলাদেশের জনগণ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের সহযোগিতার কথাও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
হামিদুল্লাহ দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরে জানান, কৃষি, বয়নশিল্প, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলায় দীর্ঘদিনের বিনিময় এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সত্যেন বোস, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের অবদানও স্মরণ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভারত আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে চায়। তিনি পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবর, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক তিন হাইকমিশনার দেব মুখোপাধ্যায়, পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী ও রীভা গাঙ্গুলি দাশও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া বহু সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাটারিং বিভাগ আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী আয়েশা মৌসুমি ও জাহিদ নীরব।