দিল্লি ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:০৭, ৩০ মার্চ ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি

মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে ভারতে যে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা শহরের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, নির্ধারিত দামের বহুগুণ অর্থ দিয়ে তাদের গ্যাস নিতে হচ্ছে। বিকল্প হিসাবে কেউ কেউ আবার কেরোসিন দিয়ে রান্না করতে শুরু করেছেন।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এবার রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখার জন্য ধরপাকড় শুরু হয়েছে। মার্চ মাসে দিল্লিতে মোট ১৭১০টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দেশজুড়েই।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পয়লা মার্চ থেকে ২৬শে মার্চের মধ্যে রাজধানী জুড়ে ৭৬টি অভিযান চালানো হয়।

দিল্লিতে ২২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল অভিযোগের তীর বেশিরভাগই গ্যাসের ডিলার বা ডেলিভারি বয়দের দিকে।

ভারত সরকারের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, দেশে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তরফে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে আতঙ্কিত হয়ে 'সিলিন্ডার মজুত বা প্যানিক বাইং' না করার জন্য।

মধ্য প্রাচ্যের ঘটনাবলি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি রাজ্য জুড়ে বড় আকারের তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। দিল্লি, গোয়া, উত্তর প্রদেশ, ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর, কেরালা এবং মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ১২,০০০-এর বেশি অভিযান চালিয়ে ১৫,০০০-এর বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

গ্যাস বন্টন ব্যবস্থার ওপরে চলছে কড়া নজরদারি

ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এলপিজি বন্টন নেটওয়ার্কের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরা আউটলেট ও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে ২৫০০-এর বেশি বার আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছে।

তেল যথেষ্ট মজুত রয়েছে, সরকারের তরফে বারবার এই আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু জায়গায় প্যানিক বাইং এর ঘটনা ঘটছে যার ফলে কালোবাজারি বাড়ছে বলে সরকারই স্বীকার করে নিয়েছে।

গৃহস্থালীর জন্য ব্যবহৃত সিলিন্ডার বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, " সমস্যার সূত্রপাত থেকেই এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে গৃহস্থালী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে।"