কলকাতা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:২২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৩, ৭ এপ্রিল ২০২৬
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আসনে বাদ পড়া ভোটারদের ৯৫ শতাংশই মুসলিম
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের সিংহভাগই মুসলমান বলে উঠে এসেছে একটি সমাজ-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে।
পশ্চিমবঙ্গের সমাজ গবেষণা সংস্থা 'সবর ইনস্টিটিউট'এর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ৯৫.৫ শতাংশই মুসলমান।
ভোটার তালিকার যে নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলছে, সেই প্রক্রিয়ায় দফায় দফায় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা বিশ্লেষণ করেই এই তথ্য তারা পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তারা নিয়মিতভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করছে।
এই প্রতিষ্ঠানের তরফে এসআইআর নিয়ে যে গবেষণা চালানো হয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন 'অসামঞ্জ্যসের' বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তারই মধ্যে নন্দীগ্রাম অন্যতম।
মুসলমান অধ্যুষিত অন্যান্য জেলাতেও বহু সংখ্যক মুসলমান ভোটারের নাম বাদ গেছে তালিকা থেকে।
বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে আছেন বাংলার নবাব মীর জাফরের পরিবারের উত্তরসূরীদের অন্তত দেড়শো জন।
আবার মালদা জেলার মুসলমান অধ্যুষিত সুজাপুর আর মোথাবাড়িতে গত সপ্তাহে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই দুটি অঞ্চলের প্রায় দুই লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে নারী, পুরুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা ছিল সাত কোটি আট লাখ ১৬ হাজার ৬৩০ জন।
নির্বাচন কমিশনের সোমবার ৬ই এপ্রিল যে তথ্য দিয়েছে, তাতে এখনো পর্যন্ত সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫ নাম বাদ পড়েছে।
তবে নন্দীগ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ এই আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা এবং ২০২১-এর ভোটে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা ব্যানার্জীর 'পরাজয়' এবং তারপর সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়া মিলিয়ে নন্দীগ্রাম বরাবরই খবরের শিরোনামে থেকেছে।