টোকিও টেলিগ্রাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:৩৯, ৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালী খোলার ইস্যুতে জাপান-ইরান ফোনালাপ

হরমুজ প্রণালী খোলার ইস্যুতে জাপান-ইরান ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি। বুধবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা।

তাকাইচি সাংবাদিকদের জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম যোগাযোগ। প্রায় ২৫ মিনিটের এই ফোনালাপে তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি স্থায়ীভাবে লড়াই বন্ধের একটি চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।

তাকাইচি বলেন, জাপান এই অগ্রগতিকে “একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ” হিসেবে স্বাগত জানালেও দ্রুত একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ফোনালাপে জাপান-সংশ্লিষ্ট জাহাজসহ সব দেশের নৌযানের নিরাপদ চলাচল অবিলম্বে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

যুদ্ধের ফলে কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯৩ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই আসে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাত্র তিনটি জাপানি জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করতে পেরেছে বলে জানা গেছে। প্রণালী বন্ধ থাকায় জাপান বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা খুঁজছে। তাকাইচি একদিন আগে জানিয়েছিলেন, আগামী মাসের মধ্যে তেল সরবরাহের প্রায় অর্ধেক হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে অন্য পথে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতির পর নতুন এক চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। মাইন অপসারণের মতো অভিযানের জন্য ওই অঞ্চলে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও চাপ আসতে পারে। সোমবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না করার জন্য জাপানসহ কয়েকটি দেশকে তিরস্কার করেন।

জবাবে তাকাইচি জাপানের আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত সামরিক ভূমিকার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। সরকার জানিয়েছে, গত মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে তাকাইচি এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে মাইন অপসারণ অভিযানে সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে ফোনালাপে তাকাইচি ইরানে আটক থাকা এক জাপানি নাগরিকের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেলেও বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান ত্যাগ করতে পারবেন না। জাপান সরকার তার পরিচয় প্রকাশ না করলেও কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, তিনি এনএইচকে’র তেহরান ব্যুরো প্রধান শিনোসুকে কাওয়াশিমা।