টোকিও টেলিগ্রাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:০৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ওকিনাওয়ায় মার্কিন ঘাঁটি ফেরত এখনো অনিশ্চিত, ৩০ বছরেও বাস্তবায়ন

ওকিনাওয়ায় মার্কিন ঘাঁটি ফেরত এখনো অনিশ্চিত, ৩০ বছরেও বাস্তবায়ন

টোকিও ও ওয়াশিংটন-এর মধ্যে চুক্তির তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জাপানের ওকিনাওয়া-এ অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। স্থানীয়দের কাছে এটি এখনো এক অনিশ্চিত প্রত্যাশা হিসেবেই রয়ে গেছে।

১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে ফুতেনমা এয়ার স্টেশন সম্পূর্ণরূপে জাপানের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, বাস্তবে তা বহু জটিলতায় আটকে গেছে।

ফুতেনমা ঘাঁটির কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য নাগো শহরের হেনোকো উপকূলে একটি বিকল্প স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিরোধিতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে এই প্রকল্প বারবার বিলম্বিত হয়েছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ফুতেনমা ঘাঁটির ঝুঁকি কমাতে স্থানান্তর জরুরি। কিন্তু ওকিনাওয়ার স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পুরো প্রিফেকচারজুড়ে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বোঝা আর বহন করতে চায় না তারা।

বর্তমান গভর্নর ডেনি তামাকি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই স্থানান্তর পরিকল্পনা দ্রুত ঝুঁকি দূর করবে না এবং এটি ওকিনাওয়াবাসীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, “এই স্থানান্তরই একমাত্র সমাধান,” এবং সরকার নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

২০১৩ সালে তৎকালীন গভর্নর হিরোকাজু নাকাইমা ভূমি ভরাটের অনুমোদন দিলেও, তার উত্তরসূরি তাকেশি ওনাগা ২০১৫ সালে সেই অনুমতি বাতিল করেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আইনি সংঘাত তৈরি হয়। পরবর্তীতে আদালতে জয় পেয়ে সরকার ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি পায়।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। নির্মাণস্থলে নরম মাটি পাওয়ায় নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে অন্তত ২০৩৬ সালের মধ্যে জমি ফেরত দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে একটি বড় বাধা হলো—জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত দৈর্ঘ্যের বিকল্প রানওয়ে খুঁজে পাওয়া। ফুতেনমায় ২,৭০০ মিটার রানওয়ে থাকলেও নতুন স্থাপনায় থাকবে দুটি ১,৮০০ মিটার রানওয়ে।

ওকিনাওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে তাইওয়ান ঘিরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। এছাড়া সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন ও জাপান-এর বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

চীন নিয়মিত এই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাচ্ছে, ফলে জাপান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, তিন দশক আগে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ এখনো জটিল ও অনিশ্চিত। স্থানীয় বিরোধিতা, কৌশলগত বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ওকিনাওয়ার ঘাঁটি ইস্যু এখনো সমাধানের অপেক্ষায়।