টোকিও টেলিগ্রাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:১৬, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এশিয়ায় তেল ঘাটতি মোকাবেলায় ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে জাপান

এশিয়ায় তেল ঘাটতি মোকাবেলায় ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে জাপান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোকে সহায়তা দিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জাপান। এই সহায়তার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা এবং জাপানে পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট Association of Southeast Asian Nations (আসিয়ান)-এর নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ ঘোষণা দেন।

তাকাইচি বলেন, “সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে জাপান প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত এবং পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এশিয়ায় তেলের ঘাটতি বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা জাপানের অর্থনীতি ও সমাজে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘোষিত এই সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদান, তেল আমদানির অর্থায়ন এবং মজুদ সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাপান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই সহায়তা সর্বোচ্চ ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলের সমতুল্য, যা আসিয়ান দেশগুলোর প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমান।

সরকারি সূত্র জানায়, এই সহায়তা মূলত জাপান সরকার-সমর্থিত Japan Bank for International Cooperation-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী-তে সংঘাতজনিত বিঘ্নের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে আমদানি ব্যয় মেটানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সীমিত মজুদ থাকা দেশগুলো এতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে তাকাইচি স্পষ্ট করে বলেন, এই সহায়তা কর্মসূচিতে জাপানের নিজস্ব মজুদ থেকে সরাসরি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

উল্লেখ্য, জাপান মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দেশটি নিজস্ব মজুদও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ধরে রাখে।

জাপানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এশিয়ার জন্য বড় ঝুঁকি এবং এই রুটে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।