নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:৩৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৯, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
জাপানে ফেব্রুয়ারিতেই আগাম নির্বাচনের পথে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ফেব্রুয়ারিতে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার দলের জোট শরিকরা। রবিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ৮ অথবা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করছেন।
জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন) নেতা হিরোফুমি ইয়োশিমুরা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে জানান, শুক্রবার তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর তার মনে হয়েছে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় “একটি নতুন পর্যায়” এসেছে। ইয়োমিউরি শিম্বুন সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাকাইচি ২৩ জানুয়ারি সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। উচ্চ জনসমর্থনকে কাজে লাগাতেই তিনি আগাম নির্বাচনের পথে এগোতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাজেট নিয়ে জটিলতা
আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাকাইচির ব্যয় পরিকল্পনা ও বাজেট অনুমোদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেটে ৭৮৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বড় আকারের প্রণোদনা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত।
বিরোধী দল কোমেইতোর প্রধান তেৎসুও সাইতো সতর্ক করে বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে অর্থবছরের শেষ নাগাদ বাজেট পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর শুক্রবার ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মানও কমে যায়।
তাকাইচি অবশ্য এনএইচকে-কে বলেন, বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমানো এবং জনগণকে প্রণোদনা নীতির সুফল পৌঁছে দেওয়া। তিনি মার্চের মধ্যে সম্পূরক বাজেট বাস্তবায়ন ও নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিসভাকে।
চীনের সঙ্গে উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
চীনের প্রতি তাকাইচির কঠোর অবস্থান ডানপন্থী ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। চীন ইতোমধ্যে নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছে, বৈঠক ও অনুষ্ঠান বাতিল করেছে এবং জাপানের সামরিক বাহিনীর জন্য দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।
তাকাইচি এসব নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, জাপান কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে জি-৭ অংশীদারদের সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল জোরদার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
জাপানের পরবর্তী নিয়মিত নিম্নকক্ষ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালের অক্টোবরের আগে নয়। তবে আগাম নির্বাচনে জোট যদি বড় জয় পায়, তাহলে তাকাইচির নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে তার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ইশিন নিম্নকক্ষে সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উচ্চকক্ষে সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, একাধিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর শিগেরু ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হন। সংসদের অনুমোদন পেলেও তিনি এখনো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নেননি।