টোকিও টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫৭, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভূমধ্যসাগরে এক হাজার অভিবাসী নিখোঁজের আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’-এর কারণে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ভূমধ্যসাগরে অন্তত এক হাজার অভিবাসী নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইতালিভিত্তিক এনজিও মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস।
সংস্থাটি জানিয়েছে, লিবিয়া ও টিউনিশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি হতে পারে। একই সঙ্গে ইতালি ও মাল্টার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং পর্যাপ্ত উদ্ধার অভিযান না চালানোর অভিযোগও এনেছে এনজিওটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস-এর প্রেসিডেন্ট লরা মারমোরালে বলেন,
“সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির চিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে। অথচ ইতালি ও মাল্টার সরকার নীরব রয়েছে এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
স্যাটেলাইট টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ইনমারস্যাটের মাধ্যমে রোমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার থেকে পাঠানো তথ্যে জানা যায়, ২৪ জানুয়ারির আগেই অন্তত ৩৮০ জন অভিবাসী সাগরে নিখোঁজ হন। আটটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ভিত্তিতে এই তথ্য দেওয়া হয়।
জানা গেছে, টিউনিশিয়ার স্ফ্যাক্স শহর থেকে ১৪ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে এসব নৌকা রওনা হয়েছিল। আটটি নৌকায় মোট ৩৮০ জন অভিবাসী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। তবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো নৌযান শনাক্ত করা যায়নি এবং নিশ্চিত কোনো উদ্ধার ঘটনারও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ সময় ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’-এর প্রভাবে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় সাত মিটার (২২ ফুট) এবং বাতাসের গতি ছিল ৫৪ নটের বেশি। এনজিওটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকের মধ্যে এটি ছিল এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতিগুলোর একটি। এরপর ইউরোপীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ আর কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়।
টিউনিশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের বরাত দিয়ে মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির পর স্ফ্যাক্সের আশপাশের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ে। তবুও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দলবদ্ধভাবে বহু নৌকা সাগরে পাড়ি জমায়। অভিবাসীদের দাবি, ওই সময় সমুদ্রের নজরদারি কিছুটা শিথিল ছিল।
অভিবাসীদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, অনেক নৌকা আর কখনো ফিরে আসেনি এবং নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের কোনো খোঁজ পাননি।
এনজিওটির তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় এক দালাল অন্তত পাঁচটি নৌকা পাঠিয়েছিল, প্রতিটিতে ৫০ থেকে ৫৫ জন করে অভিবাসী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিবাসীরা জানিয়েছেন, স্ফ্যাক্সের দক্ষিণে বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে ডজনখানেক নৌকা যাত্রা শুরু করেছিল।
এই নৌকাগুলোর মধ্যে শুধু ২২ জানুয়ারি একটি নৌকা ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছায়। ওই নৌকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নৌকাটিতে থাকা এক বছরের যমজ দুই শিশু সাগরে নিখোঁজ হয়। অন্য সব নৌকা সাগরে হারিয়ে গেছে বলেই ধারণা করছে এনজিওটি।
মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মাল্টা কর্তৃপক্ষ সাগর থেকে ডজনখানেক মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ৩০ জানুয়ারি মাল্টার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অঞ্চলে বেসামরিক উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে, যা পরে ইতালির সিরাকুজা শহরে পাঠানো হয়।
এনজিওটির মতে, প্রাপ্ত তথ্য এখনও খণ্ডিত ও কখনো পরস্পরবিরোধী হলেও বাস্তবে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের মাত্রা সরকারি প্রতিবেদনের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। নিখোঁজ শত শত অভিবাসীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।