টোকিও টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫৯, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৯, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের নতুন ক্লাস্টার, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে উচ্চ সতর্কতা’
দক্ষিণ এশিয়ার জনস্বাস্থ্য খাতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে এই ভাইরাসের ক্লাস্টার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া তাদের সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিমানবন্দরগুলোতে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবে দূষিত ফল কিংবা কাঁচা রস গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক নয়, তবে এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি দুইজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বড় ট্রানজিট পয়েন্টেও। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ জ্বরের মতো—জ্বর, মাথাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা। তবে দ্রুতই রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসে রূপ নেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। পরীক্ষামূলক কিছু ভ্যাকসিন গবেষণাধীন থাকলেও সেগুলো সাধারণ ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। ফলে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে শীত মৌসুমে কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে নিপাহ সংক্রমণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ বারবার আধা-খাওয়া ফল না খাওয়া এবং বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।
১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের বিক্ষিপ্ত সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাতশ মানুষ নিপাহে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে চার শতাধিকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত করা না গেলে স্নায়বিক জটিলতা শুরু হওয়ার পর রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, যাতে সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।