ওয়াশিংটন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:২৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে ঐকমত্য হলেও ট্রাম্প–মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভারত বাণিজ্য সংক্রান্ত সব ধরনের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল আমদানি করবে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুরোধে দুই দেশের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি ও কয়লাসহ মোট ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় তিনি আনন্দিত এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
মোদী আরও বলেন, “বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে তা জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।”
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মোদীর পোস্টে অনুপস্থিত ছিল। বিশেষ করে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা কিংবা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানির বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগলম্যান এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের রাশিয়ান তেল সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমালেও পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ।
কুগলম্যান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনো বহু বিষয় অস্পষ্ট। কৃষির মতো সংবেদনশীল খাত উন্মুক্ত করা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট নয়, যা অতীতে সমঝোতা না হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২১২ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানির দাবি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।