ওয়াশিংটন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:২২, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে অতিরিক্ত শুল্ক: ট্রাম্পের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও আদেশে নির্দিষ্ট করে শুল্কের হার উল্লেখ করা হয়নি, তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি কিংবা অন্য যেকোনোভাবে সংগ্রহ করা হলে—সেসব দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।”
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনা চলছিল।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ-এ ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। গত ১২ জানুয়ারি তিনি লেখেন,
“অবিলম্বে কার্যকর হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।”
তবে তখনও এই শুল্ক কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এরপর রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই সর্বশেষ নির্বাহী আদেশটি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে এই আদেশ সংশোধন করতে পারবেন।
নির্বাহী আদেশে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশ ও স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার থেকেই ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,শুক্রবারের আলোচনা খুবই ভালো হয়েছে এবং ইরান সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে পরিণতি হবে খুবই খারাপ।
ট্রাম্প আরও জানান, আগামী সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।